ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

‘অটো পাস’ দিয়ে একটি প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে সরকার: রিজভী

ads

করোনাকালীন বিরূপ বাস্তবতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের ‘অটো পাস’ দেওয়ার পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অটো আর ফটোকপির পাস দিয়ে সরকার একটি প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।


রিজভী বলেন, ‘গ্রেট ব্রিটেন, ভারত, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা আমেরিকাসহ কোনো দেশেই করোনাকালীন বাস্তবতায় অটো পাস দেওয়া হয়নি। সকল দেশেই শিক্ষার্থীর মেধার মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষার বিকল্প শুধু পরীক্ষাই রাখা হয়েছে; অন্য কিছু নয়।’


‘অথচ বাংলাদেশ চলছে সম্পূর্ণ উল্টো পথে, উল্টো রথে। এখানে সব চলছে করোনাভাইরাসের অজুহাতে। অটো পাস আর ফটোকপির পাস দিয়ে বর্তমান সরকার একটি প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে’ যোগ করেন তিনি।


এ সময় ‘নিশিরাতে অটো পাস’ সরকার বরাবরই নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে একেকবার একেকটা নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে দেশের মানুষ আর গণমাধ্যমকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মুখপাত্র।


তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি মানুষ জানে যে, নির্বাচনে ‘অটো পাস’ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বর্তমান অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”


রিজভী বলেন, ‘করোনা নিয়ে সরকার তথ্য গোপন করে অতি সামান্য আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীরা নিরাপদে আইসোলেশনে থেকে নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন। আর সাধারণ মানুষ বিনা চিকিৎসায় ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন, হাসপাতালের বেড ইত্যাদির অভাবে কাতরাচ্ছে।’


তিনি বলেন, ‘ঢাকাসহ কোথাও আইসিইউ খালি নেই। অক্সিজেনের অভাবে মায়ের কোলেই সন্তান মারা যাচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে করোনা রোগীকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকারের কোনো দায়িত্ব নেই। সরকার যেন চোখ বুজে ধ্যান করছে।’


রিজভী আরও বলেন, ‘বুধবার মহান বিজয় দিবসের বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যথার্থই বলেছেন- মুক্তিযুদ্ধ করে একাত্তর সালে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, আর এখন চলছে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। ভোটাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’


তিনি আরও বলেন, ‘বিজয়ের ৪৯ বছর পরও দেশের বর্তমান বাস্তবতা হলো- স্বাধীন দেশের নাগরিকরা নিজ দেশেই পরাধীন। শুধু নিজ দেশে পরাধীনই নয়, ধীরে ধীরে দেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতাকেও হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’

ads
ads
ads

Our Facebook Page