আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নেতিবাচক রাজনীতির কারণে বিএনপি এখন জনবিচ্ছিন্ন এবং তাদের নেতৃত্ব বহু বিভক্ত। শাক দিয়ে যেমনি মাছ ঢাকা যায় না, তেমনি বিএনপিও তাদের অপরাজনীতি এখন আর ঢেকে রাখতে পারছে না।রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি ভাস্কর্যের অবমাননাসহ দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করে কাদের বলেন, বিএনপি এখন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের সঙ্গে গোপন সখ্যতা রাখায় বিএনপি ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের উদ্ধৃত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দলের ভেতরের মহলটি বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকারীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজকে সত্য বলার অপরাধে শোকজ করা দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবমাননাকর বলে মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান যখন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি বাণিজ্য এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন, তখন তাকে শোকজ করা হলো। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা হয়েছে।’
দলের এ পর্যায়ের কোনো নেতা যখন এমন অভিযোগ আনেন, তখন সেই দলের কর্মী ও জনগণের কাছে দলীয় নেতৃত্বের কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকে না বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, দলীয়ভাবে তারা ভাস্কর্যের অবমাননাসহ দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে এবং অপকর্মের ইন্ধন জোগাচ্ছে।’
দলটিতে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেশি দাবি করলেও এর অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনঠাসা করার জন্য একটি মহল কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলেই বিএনপি তাদের যেকোনো নেতাকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলতে পারে।’
বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আপাদমস্তক অগণতান্ত্রিক দাবি করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই, তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে পারবে বলে জনগণ বিশ্বাস করে না।’