জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হলে তার দল চুপ থাকবে না। সোমবার রাজধানীর একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সংসদে তারা সবসময় সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলবেন। সরকার যদি জনস্বার্থে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে জামায়াতে ইসলামী কেবল সমর্থনই নয়, বরং পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। তবে জনগণের অধিকার হরণ করা হলে প্রথমে প্রতিবাদ এবং প্রয়োজনে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে, নির্বাচনের আগে ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ের স্বপ্ন দেখা হলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং মানুষের ভোটাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে যা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
জামায়াত আমির আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে যারা মজলুম বা নির্যাতিত ছিল, তাদের কাউকে কাউকে এখন ভিন্ন ও দমনমূলক ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে তাদের জন্য সুখকর হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মূলত মুসলিম বিশ্বই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দলমত নির্বিশেষে যেখানেই মানবতা লঙ্ঘিত হবে, সেখানেই জামায়াত অবস্থান নেবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্য শেষ করেন ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।